a
ফাইল ফটো:
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে মামুনুল হককে নিয়ে কুরুচি ভাষায় মন্তব্য করায় সুনামগঞ্জের শাল্লায় গ্রেফতার ঝুমন দাসের গ্রামে মামুনুল হকের অনুসারীরা হামলা চালানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে হেফাজত নেতা মামুনুল হককে নিয়ে অশালীন মন্তব্য করায় সুনামগঞ্জের শাল্লায় গ্রেফতার করা হয়েছে ঝুমন দাসকে।
বুধবার সকাল ৯টার দিকে উপজেলার নোয়াগ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় গ্রামটিতে অন্তত ২০ ঘরবাড়ি ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ পাওয়া যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মামুনুল হকের অনুসারীরা লঠিসোটা হাতে মিছিল নিয়ে ওই গ্রামে হামলা করে। হামলার আগেই আগাম খবর পেয়ে বাড়ি ছেড়ে হাওরে আশ্রয় নেন নোয়াগ্রামের ঝুমন দাসের আশে-পাশের লোকজন। ফলে কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে।
ভুক্তভোগী শৈলেন্দ্র দাস জানান, যে ছেলেটি ফেসবুকে মামুনুল হকের বিরুদ্ধে কটুক্তি করেছে তাকে তারা গতকাল ধরে পুলিশের হাতে সোপর্দ করেছে। এরপর গ্রামের অন্যান্যদের আশ্বস্ত করা হয়েছিলো আর কিছু হবে না। কিন্তু সকালেই লাঠিসোঠা নিয়ে কয়েকশ’ মানুষ পুলিশ ও উপজেলা চেয়ারম্যানের সামনেই হামলা চালায়।
তারা আগাম খবর পেয়ে গ্রামের নারীসহ পুরুষরা শিশুদের নিয়ে হাওরের আশ্রয় নেয়। এরপর বাড়ি ফিরে এসে দেখে ঘরের আসবাব ভাংচুর করা হয়েছে। এ সময় তিনি অভিযোগ করেন তার ঘরে থাকা স্বর্ণ ও টাকাও লুট করে নিয়ে যায়।
শাল্লা থানার ওসি নাজমুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, যে ছেলেটি ফেসবুকে আল্লামা মামুনুল হককে নিয়ে কটূক্তি করেছিল, তাকে ধরে গতরাতেই গ্রামের লোকজন পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে। তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কিন্তু সকালে হঠাৎ শতাধিক লোকজন লাঠিসোটা নিয়ে নোয়াগ্রামের দিকে মিছিল নিয়ে যাচ্ছে এমন খবর পেয়ে পুলিশও তাদের পিছু নেয়। কিন্তু কিছু লোক আগেই নদী পার হয়ে নোয়াগ্রামে হামলা চালায়। এ সময় ঝুমন দাসের বাড়িসহ প্রায় ২০ বাড়িঘরে ভাঙচুর হয়।
ওসি জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ওই গ্রামে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি এখন শান্ত রয়েছে। গত সোমবার শাল্লার পাশের উপজেলা দিরাইয়ে হেফাজতের একটি সমাবেশে বক্তব্য দেন হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব আল্লামা মামুনুল হক।
ফাইল ছবি
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে পুলিশের অভিযানের প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ করার পর বাধা দেওয়ায় পুলিশের সঙ্গে স্থানীয়দের ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে র্যাব পুলিশ যৌথ অভিযান পরিচালনা করে। এদিকে, পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে স্থানীয় জনগন।
সোমবার সকালে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের আদমজী বিহারী কলোনি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এর আগে রবিবার দিবাগত রাতে পুলিশ বাড়ি বাড়ি অভিযান চালিয়ে ৩০ জনকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায় বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন।
গ্রেফতারকৃতদের মুক্তির দাবিতে সকাল থেকে আদমজী বিহারী কলোনির সড়ক ও মূল সড়ক অবরোধ করে রাখে আন্দোলনকারীরা। পরে পুলিশ তাদের বাধা দিলে তারা রাস্তা ছাড়বেন না বলে জানায়ন। এক পর্যায়ে পুলিশ ধাওয়া দিলে পুলিশের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে তারা। এ সময় পুলিশও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে লাঠিচার্জ, টিয়ারসেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে।
উল্লেখ্য, শুক্রবার জুমার নামাজের সময় আদমজী শাহী মসজিদে ভারতে মহানবীকে নিয়ে কটূক্তির কথার প্রতিবাদে ইমামের বক্তব্য দেওয়াকে কেন্দ্র করে ঘটনার সূত্রপাত। ইমামের বক্তব্য চলাকালে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) সৈয়দ আজিজুল হক তাকে থামিয়ে বলেন, ‘ভারতের ঘটনা ভারতে থাকুক, এখানে আমরা কোনো বিশৃঙ্খলা যেন না করি। ’
এ সময় তার ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে মসজিদের ভেতরে মারধর করে মুসল্লীরা। এক পর্যায়ে স্থানীয় কাউন্সিলর মতিউর রহমান মতি ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মশিউর রহমান তাকে উদ্ধার করে সদর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে তাকে রাজারবাগ পুলিশ লাইনস হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এ ঘটনায় শনিবার (১১ জুন) সিদ্ধিরগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মির্জা শহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে ৫০ জনের নাম উল্লেখ করে ১২৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন। এই মামলার আসামি ধরতেই নাকি রবিবার দিবাগত রাতে অভিযানে চালায় পুলিশ।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মশিউর রহমান জানান, পরিস্থিতি আপাতত নিয়ন্ত্রণে আছে। আমরা ঘটনাস্থলে অবস্থান করছি, বিস্তারিত পরে জানানো হবে। সূত্র: বিডি প্রতিদিন
ওবায়দুল কাদের
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, গণপরিবহনসহ সর্বত্রে স্বাস্থ্যবিধি না মানা হলে আবারও কঠোর লকডাউন দেয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন।
রবিবার তার বাসভবন থেকে পাঠানো এক ভিডিও বার্তায় এ হুঁশিয়ারি প্রদান করেন।
ওবায়দুল কাদের বলেন, লকডাউনের পরে গণপরিবহন চলাচলে সুযোগ দেয়া হলে সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে। তা না হলে সরকার আবারও কঠোর লকডাউন দিতে বাধ্য হবে।